Class Ending পার্টির মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটে শাহপরাণ মডেল হাই স্কুলের পাঠদান কার্যক্রম।




আজ শাহপরাণ মডেল হাই স্কুলের শিক্ষার্থীরা সেজেছিল ব্যতিক্রমধর্মী এক উৎসবের রঙে। এদিন ছিল তাদের 'ক্লাস পার্টি'। দিনভর হৈ চৈ আর আনন্দে মেতেছিল সবাই।

বছরের পুরো সময়ে যাদের অবতীর্ণ হতে হয় পাঠ্যবই, গতানুগতিক ক্লাস আর বর্তমান সময়কার প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষাযুদ্ধে, সেই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের এদিন দেখা মিলেছে অন্যরকম পরিবেশে। সকাল ১০টা থেকে 'ক্লাস পার্টি' নামের এই আয়োজনকে ঘিরে মডেল স্কুলের শ্রেণিকক্ষ সেজেছিল উৎসবের রঙে। ক্লাসে ক্লাসে কেক কাটা, মোমবাতি প্রজ্জ্বলন, নাচ, গান, অভিনয়, বক্তৃতা, কৌতুক, উপস্থাপনা, মনের মতো সাজসহ আরো কত পরিবেশনা! আবার এসবের ফাঁকে ফাঁকে চলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী কেক খাওয়া, অতিথিদের বরণ, আপ্যায়ন আর নানান খুনসুটি।


সকাল ১০টায় স্কুল গেট দিয়ে ষষ্ঠ শ্রেণীর কক্ষের দরজায় লাগানো লাল ফিতা কেটে পার্টির উদ্বোধন করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন। পরে একে একে ষষ্ঠ থেকে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাসে কেক কেটে পার্টি উদযাপন করা হয়। এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা একে অপরকে কেক খাইয়ে পার্টিতে অংশ নেন।


এছাড়াও সহকারি শিক্ষক অলিউর রহমানের উপস্থাপনায়, ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র তানভীর আহমদের কোরআন তিলাওয়াত এবং সহকারি শিক্ষিকা সরস্বতী রানী দেবের গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে আলোচনা সভা শুরু হয়।

 স্কুলের প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন বলেন, 'স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মনন বিকাশের লক্ষ্যে ব্যতিক্রমী এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। মাঝে মাঝে শিক্ষার্থী-শিক্ষক এমন মিলনমেলায় অংশ নিয়ে নিজেদের মধ্যে দারুণ এক মেলবন্ধন তৈরি করতে পারবেন বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

অত্র বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক ইয়াকুব আলী বলেন, 'সারা বছর শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবইয়ের পড়ায় ব্যস্ত হয়ে অনেকটা যান্ত্রিক হয়ে ওঠে। কোমলমতি এসব শিশু শিক্ষার্থীকে যান্ত্রিকতা থেকে রেহাই দিতে আমরা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছি। আশা করি এটি শিক্ষার্থীদের মনন বিকাশে সহায়ক হবে। প্রতি বছর এমন আরও আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। '

সহকারি শিক্ষক রিংকু দেব বলেন, অন্যরকম এই অনুষ্ঠান তিনিও বেশ উপভোগ করেছেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি আনন্দ অনুষ্ঠানও মানুষের মনের বিকাশ ঘটায়। কারণ আনন্দহীন শিক্ষা শিক্ষার্থীদের যেমন মেধার বিকাশ ঘটায় না, তেমনি সে রকমের শিক্ষা ছাত্র-ছাত্রীরা বেশিক্ষণ মনেও রাখতে পারে না। এই আনন্দ শিক্ষার্থীদের নতুন ক্লাসে ভালভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে উৎসাহ যোগাবে।


অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, সারা বছর ধরে তারা এই শেষ দিনটির জন্য অপেক্ষা করে থাকি। বছর জুড়ে পড়ালেখা করতে করতে যখন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন শেষের দিকে এই ক্লাস পার্টির আনন্দ ও মজা আমাদের নতুন করে লেখাপড়া করার শক্তি ও প্রেরণা যোগায়।

 স্কুলের পার্টিতে অন্যান্যদের মাঝে অংশ নেন সহকারি শিক্ষিকা সরস্বতী রানী দেব,সমাজসেবক জোবায়ের হুসেন,তরুণ সংগঠক সামাদ মিয়া,পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের মাঠ সহকারী ইব্রাহীম খলিল প্রমুখ। সবশেষে বিকেলে ক্লাসে ক্লাসে সাধারণ জ্ঞানের প্রশ্নোত্তর পর্বের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।







এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন