বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় শাহ্পরাণ মডেল হাই স্কুলে।
আজ (২৯ ডিসেম্বর) সকাল ১০ ঘটিকায় সহকারী শিক্ষক অলিউর রহমান স্যারের উপস্থাপনায়, সপ্তম শেণির ছাত্র আফজল হোসেনের কোরআন তিলাওয়াত,ও সহকারী শিক্ষিকা সরস্বতী রাণী দেবের গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে জগন্নাথপুর উপজেলার শাহ্পরাণ মডেল হাই স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল,বিজয় দিবসে আয়োজিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক রচনা প্রতিযোগিতা 'এসো লিখি বিজয়ের গল্প',ও কুইজ প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণা করেন আজকের অনুষ্ঠানের সভাপতি অত্র বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক জনাব জামাল উদ্দিন স্যার।
প্রধান শিক্ষক অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, ‘শাহপরাণ মডেল হাই স্কুলের উন্নতি এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য কখনো কৃপণতা করে না। যদি কোন সমস্যা হয় তাহলে আপনারা স্কুল পরিচালনা কমিটিকে জানাবেন, তারা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করবেন।তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন,যারা এ বছর কৃতকার্য হতে পারোনি, তারা আগামি বছরের শুরু থেকেই বেশি করে পড়াশোনা করবে যেন বছর শেষে ভালো ফলাফল লাভ করতে পারে। সেই সাথে যারা কৃতকার্য হয়েছো তাদেরকে জানাই অভিনন্দন আমি এখনো পর্যন্ত আমার স্কুলে শিক্ষকদের সাথে দেখা হলে সম্মান প্রদর্শন করি, ঠিক তেমনি তোমারা শিক্ষকদের সর্বদা সম্মান করবে। কারণ শিক্ষকগণ নিঃস্বার্থভাবে তোমাদের শিক্ষাদান করে থাকেন। শিক্ষকতা শুধু পেশা নয়, শিক্ষকতা একটি ব্রত।’ তিনি শিক্ষকদের উদ্দেশ্য আরো বলেন, ছাত্র-ছাত্রীদের সু-শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলবেন। তাদের ভুল হলেও তিরস্কার না করে অনুপ্রাণিত করবেন'।
সহকারী শিক্ষক ইয়াকুব আলী স্যার বলেন,
একজন আলোকিত মানুষই গড়ে তুলতে পারে একটি আলোকিত সমাজ, জাতি তথা সমগ্র রাষ্ট্র। প্রত্যেক ধর্মেই বিদ্যা শিক্ষার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। পশুপাখি সহজেই পশুপাখি, তরুলতা সহজেই তরুলতা; কিন্তু মানুষকে ‘মানুষ’ হতে হয় আপ্রাণ চেষ্টায়। মানুষকে সত্যিকার মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার প্রধান অনুষঙ্গ শিক্ষা; আর শিক্ষা গ্রহণের প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক ধাপ হচ্ছে বিদ্যালয়। একথা দ্ব্যর্থহীনভাবে বলা যায় যে, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক এ ত্রিমূলের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠ পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব। আজকের কোমলমতি শিশুরা যদি সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে পরিবার, সমাজ তথা রাষ্ট্রের প্রতি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করে তবেই তারা আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে। সম্মানিত অভিভাবকবৃন্দ এবং আমাদের অসংখ্য শুভাকাঙ্খীর আন্তরিক সহযোগিতা ও মূল্যবান পরামর্শ দিয়ে আমাদের কাঙ্খীত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করবেন এটাই আমাদের প্রত্যাশা। আপনাদের সহযোগিতা ও পরামর্শের সাথে আমাদের আন্তরিক চেষ্টার সমন্বয়ের মাধ্যমে আমরা আমাদের প্রত্যাশিত ফলাফল আর্জনে সক্ষম হবো।
সহকারী শিক্ষক রিংকু দেব বলেন, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইলে শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। কিন্তু এই শিক্ষা যেন পাঠ্যপুস্তক শিক্ষা না হয়ে জ্ঞান অর্জনের শিক্ষা হয়। তখনই এই শিক্ষার্থী প্রকৃত শিক্ষায় আলোকিত হয়ে দেশ ও নিজেকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে।
প্রত্যেক শ্রেণির প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীদের হাতে বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল এবং পুরস্কার তুলে দেন অনুষ্ঠানের অতিথিরা। এ ছাড়াও ১৬ ডিসেম্বর আয়োজিত রচনা,ও কুইজ প্রতিযোগিতায় মোট ১৬ জন বিজয়ীকে পুরস্কার দেওয়া হয়।
ফলাফল ঘোষণা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)জগন্নাথপুর উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিন মিয়া, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য যুবলীগ নেতা সেলিম আহমদসহ শিক্ষার্থীদের অভিভাবকগণ ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।




